দিঘার জগন্নাথ মন্দির কি রাজনীতির নতুন রণক্ষেত্র?
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দিঘার সৈকতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুবিশাল জগন্নাথ মন্দির। রাজস্থানি বেলেপাথরে তৈরি এই স্থাপত্যটি বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার ফলে দিঘায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া, পুরীর ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রতীরের কাছে জগন্নাথ দর্শনের সুযোগ পেয়ে দূর-দূরান্তের তীর্থযাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে এই উন্নয়ন ও পর্যটনের পাশাপাশি মন্দিরটিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী শিবিরের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু ভোটারদের প্রভাবিত করতেই শাসকদল এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর আগে মন্দিরটির নামকরণ নিয়ে ওড়িশার সেবাইতদের আপত্তির মুখে রাজ্য সরকারকে ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম থেকে সরে এসে এটিকে ‘জগন্নাথ মন্দির’ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুকরণ এবং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির অংশ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে।