ত্রিপুরায় ধরাশায়ী বিরোধী শিবির, ধর্মনগরের উপনির্বাচনে বিজেপির রেকর্ড জয়!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে যখন গেরুয়া ঝড়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরার ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির প্রার্থী জহর চক্রবর্তী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১৮,২৯০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
একতরফা লড়াই ও ভোটের পরিসংখ্যান
চতুর্থ দফার গণনা শেষে দেখা গেছে, বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী মোট ২৪,২৯১ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের প্রার্থী অমিতাভ দত্ত পেয়েছেন মাত্র ৬,০০১ ভোট। শতাংশের হিসেবে বিজেপি একাই পেয়েছে ৬৫.১৩ শতাংশ ভোট, যেখানে সিপিআইএম ও কংগ্রেস যথাক্রমে ১৬.০৯ এবং ১৫.৯২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী ভোট বাম ও কংগ্রেসের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়া এবং বিজেপির সুসংগঠিত প্রচারই এই বিপুল ব্যবধান নিশ্চিত করেছে।
আসনটি শূন্য হওয়ার প্রেক্ষাপট
ধর্মনগরের দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা ত্রিপুরা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণে এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে দীর্ঘ রোগভোগের পর বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। চারবারের এই জনপ্রিয় বিধায়কের মৃত্যুতে ধর্মনগর অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল, যার ফলে এই উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিশ্ববন্ধু সেনের প্রতি স্থানীয় মানুষের আবেগ এবং সহানুভূতিও পরোক্ষভাবে বিজেপিকে বাড়তি মাইলেজ দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উন্নয়নের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার
ফলাফল ঘোষণার পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা ধর্মনগরবাসীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জনগণের এই বিপুল সমর্থন ও আস্থা তাঁদের দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ধর্মনগরের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। এই জয় ত্রিপুরায় বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করল। তবে এই বড় হারের পর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।