শিবপুরে বড় জয়ের পথে রুদ্রনীল, চাপের মুখে তৃণমূলের দুর্গ!
হাওড়ার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগণনার শুরু থেকেই চমক দেখাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। প্রাথমিক পর্বের গণনা শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়ের চেয়ে ৫,৫৯৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে বিজেপির এই লিড রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিবপুর কেন্দ্রটি ছিল শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কাছেই মানসম্মানের লড়াই। এখানে তৃণমূলের রানা চট্টোপাধ্যায় এবং কংগ্রেসের শ্রাবন্তী সিংহের বিরুদ্ধে ত্রিমুখী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন রুদ্রনীল। প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে, এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের ফায়দা অনেকটাই পদ্ম শিবিরের ঝুলিতে যাচ্ছে।
হার না মানা লড়াই ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ২০২১ সালের নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে হেভিওয়েট নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে প্রায় ২৮ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। সেই হারের ধাক্কা কাটিয়ে এবার হাওড়ার মাটিতে তাঁর এই শক্ত অবস্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শিবপুরে এই ব্যবধান শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের পারফরম্যান্স নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
যদি গণনার এই ধারা বজায় থাকে, তবে শিবপুর আসনটি তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অথবা ভোট বিভাজন রুদ্রনীলের জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এই ব্যবধান বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত রুদ্রনীল জয়ী হলে তা হাওড়া জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
বর্তমানে ইভিএম-এর শেষ মুহূর্তের গণনা চলছে। এই লিড শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত জয়ের ব্যবধানে রূপ নেয় নাকি তৃণমূল শেষ লগ্নে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।