বিহারের পর এবার বাংলাতেও বিজেপির ম্যাজিক: ১৯০ আসনে এগিয়ে গেরুয়া শিবির!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল এবং ট্রেন্ড এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯০টিতে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিপরীতে, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত ৯৮টি আসনে সীমাবদ্ধ। এই ফলাফলের আভাস সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছয় মাস পুরনো সেই আলোচিত ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিহারে জয়ের ঢেউ কি এবার গঙ্গাপাড়ের বাংলায়?
২০২৫ সালের নভেম্বরে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয় পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, “গঙ্গা নদী বিহার হয়ে বাংলায় আসে; আর বিহারের এই জয়ই বাংলায় আমাদের জয়ের পথ প্রস্তুত করে দিয়েছে।” মোদীর সেই উক্তি আজ বাংলার ভোটের ফলে প্রতিফলিত হতে দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ‘ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মেলবন্ধন’ হিসেবে দেখছেন। বিহারের সেই সাফল্য যে বাংলার বিজেপি কর্মীদের মনে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল, বর্তমান ট্রেন্ড তারই প্রমাণ দিচ্ছে।
সাংগঠনিক শক্তি ও পরিবর্তনের হাওয়া
বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দলের সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো এবং নিরন্তর প্রচার। বিহারে ‘জঙ্গলরাজ’ উপড়ে ফেলার যে ডাক প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন, বাংলার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব স্পষ্ট। দলের কর্মীদের ‘প্রেরণা’ হিসেবে উল্লেখ করে মোদী তখন জানিয়েছিলেন যে, সাধারণ মানুষের স্বপ্নই বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। আজকের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া গেরুয়া শিবিরের রণকৌশল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের বাইরে বিজেপি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি চূড়ান্ত ফলাফলেও এই ট্রেন্ড বজায় থাকে, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। অন্যদিকে, এই বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রণকৌশল কী হবে এবং বিরোধী মহাজোটের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে গভীর মন্থন শুরু হয়েছে।