ঝালমুড়ির ঝাঁঝে ধরাশায়ী তৃণমূল, জয়ের উল্লাসে মাতল মুরলীধর সেন লেন

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করে ১৭০টি আসনে এগিয়ে যেতেই উদযাপনে মেতেছে গেরুয়া শিবির। কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির পুরনো রাজ্য কার্যালয়ে চলছে দেদার আবীর খেলা ও মিষ্টি মুখ। তবে এই সবের মাঝে বিশেষ নজর কেড়েছে অভিনব এক উদযাপন— ঝালমুড়ি বিতরণ।
ঝালমুড়ি রাজনীতির নেপথ্য কাহিনী
নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে আচমকাই কনভয় থামিয়ে স্থানীয় দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঘটনা নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। এমনকি কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছিলেন, তৃণমূল সম্ভবত ঝালমুড়ির ঝাঁঝ সহ্য করতে পারছে না। আজ ফল ঘোষণার দিনে বিজেপি কর্মীরা সেই ঝালমুড়ি বিলি করেই পাল্টাপাল্টি জবাব দিলেন। মুরলীধর সেন লেনের পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘ঝালমুড়ির ঝাঁঝে উড়ে গেল তৃণমূল’।
প্রভাব ও রাজনৈতিক বার্তা
এই জয় উদযাপনের মধ্য দিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার স্মৃতিকে রাজনৈতিক প্রতীকে রূপান্তর করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি আসনেই বিজেপি এগিয়ে থাকায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই ‘সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়া’ এবং সেই বিষয়কে তৃণমূলের আক্রমণ করা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলায় জেলায় অকাল হোলি
কলকাতার পাশাপাশি খড়গপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই শুরু হয়েছে বিজয় মিছিল। গেরুয়া আবীরে ঢেকেছে রাস্তাঘাট, চলছে ডিজে গান ও নাচ। মহিলা কর্মীরাও নাচে-গানে পাল্লা দিচ্ছেন পুরুষদের সাথে। তৃণমূল ১০৩টি আসনে আটকে পড়ায় রাজ্যের শাসন ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টি এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ফলের হাত ধরে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে, যার সূচনা হলো আজ ঝালমুড়ির ঝাঁঝালো উদযাপনের মধ্য দিয়ে।