ডিজিটাল ব্রিজে যুক্ত হবে দিল্লি-সিউল: ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মোদী-লি দ্বিপাক্ষিক বার্তা

প্রযুক্তি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দুই শক্তিশালী দেশ ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সোমবার দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্য ব্যবধান ঘুচিয়ে এই উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিপস থেকে শিপস সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সহযোগিতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সেমিকন্ডাক্টর বা ‘চিপস’ থেকে শুরু করে জাহাজ নির্মাণ বা ‘শিপস’, দুই দেশের যৌথ প্রয়াস কেবল বাণিজ্যিক পণ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই অংশীদারিত্বে ট্যালেন্ট, টেকনোলজি, এন্টারটেইনমেন্ট এবং এনার্জি—সবক্ষেত্রেই বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমানের ২৭ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিজিটাল ও আর্থিক খাতে বিশেষ উদ্যোগ

প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন বাড়াতে ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ’ নামে একটি বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ গবেষণা ও উৎপাদন সহজ হবে। এছাড়া বাণিজ্যিক লেনদেন সহজতর করতে ‘ভারত-কোরিয়া ফিন্যান্সিয়াল ফোরাম’ গঠন করা হচ্ছে। পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য দুই দেশের ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমকে সংযুক্ত করার চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় কিউআর (QR) কোড ব্যবহার করেই আর্থিক লেনদেন করা যাবে।

সাংস্কৃতিক বন্ধন ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

দুই দেশের মধ্যে হাজার বছরের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অযোধ্যার রাজকুমারী সুরীরত্না ও কোরিয়ার রাজা কিম-সুরোর পৌরাণিক সংযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে ২০২৮ সালে ‘ভারত-কোরিয়া মৈত্রী উৎসব’ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। উভয়েই বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন।

একঝলকে

  • ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার।
  • সিইপিএ (CEPA) চুক্তি আপডেট করার বিষয়ে সমঝোতা।
  • সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের জন্য ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ’ চালুর ঘোষণা।
  • কিউআর কোড ভিত্তিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম সংযুক্তিকরণ।
  • ২০২৮ সালে বড় পরিসরে ‘ভারত-কোরিয়া মৈত্রী উৎসব’ আয়োজন।
  • ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে একমত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *