রাতের বাসি নুডলস খেয়েই বিপত্তি! সেপসিসের ছোবলে পঙ্গুত্ব বরণ করলেন ব্রিটিশ ছাত্র
শারীরিক সুস্থতার জন্য টাটকা খাবার খাওয়ার বিকল্প নেই, কিন্তু আধুনিক ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই ফ্রিজে রাখা বাসি খাবারের ওপর নির্ভরশীল। ইংল্যান্ডের জেসি নামের এক তরুণের জীবনে এই অভ্যাসই ডেকে এনেছে চরম বিপর্যয়। বন্ধুর আনা আগের রাতের রেস্তোরাঁ থেকে বেঁচে যাওয়া চিকেন ও নুডলস ফ্রিজে রেখে সকালে খেয়েছিলেন তিনি। খাওয়ার পরপরই শুরু হয় প্রচণ্ড জ্বর ও শারীরিক অস্বস্তি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দেখেন তার কিডনি অচল হয়ে গেছে এবং ত্বক বেগুনি বর্ণ ধারণ করেছে।
ব্যাকটেরিয়ার মরণঘাতী থাবা ও সেপসিস
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বাসি খাবারে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জেসির শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করে। এর ফলে তিনি ‘সেপসিস’ আক্রান্ত হন। সেপসিস হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এমন একটি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যা নিজের টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে। জেসির ক্ষেত্রে রক্তে বিষক্রিয়া এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে তার রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে এবং ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি মৃত্যুর কোল ঘেঁষে পৌঁছান।
অঙ্গহানি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব
সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চিকিৎসকদের কাছে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। জেসির প্রাণ বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত তার হাতের আঙুল এবং দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। প্রায় ২৬ দিন কোমায় থাকার পর তার জ্ঞান ফিরলেও, সাধারণ এক খাবারের অভ্যাসের কারণে তাকে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করতে হলো। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, ফ্রিজে রাখা খাবারে বিশেষ করে আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা সঠিক তাপমাত্রায় গরম না করলে শরীরে প্রবেশ করে প্রাণঘাতী হতে পারে।
এক ঝলকে
- ফ্রিজে রাখা বাসি চিকেন ও নুডলস খেয়ে ইংল্যান্ডের এক তরুণ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
- ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে সেপসিস হয়ে তার কিডনি বিকল হয় এবং রক্ত বিষাক্ত হয়ে যায়।
- জেসির প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা তার হাতের আঙুল ও দুই পা কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন।
- দীর্ঘ ২৬ দিন কোমায় থাকার পর জ্ঞান ফিরলেও তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন।