ডিগ্রি বাড়লেও মিলছে না কাজ, বাংলায় উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের বেকারত্ব চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বিশেষজ্ঞ মহলে
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলো মহিলাদের মন জয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। কিন্তু প্রচারের এই চটকদার আবহের আড়ালে রাজ্যের শিক্ষিত মহিলাদের কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বাংলায় মহিলাদের শিক্ষার হার বাড়লেও সেই অনুপাতে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি, যা নির্বাচনী আবহে এক বড়সড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানের বয়ানে বিপরীত ছবি
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে কম থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৬ শতাংশে, যা জাতীয় হারকেও ছাপিয়ে গেছে। এর মধ্যে তরুণীদের বেকারত্বের গ্রাফ সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। ২০২২ সালে যেখানে যুবতীদের বেকারত্বের হার ছিল ৫.৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে হয় ১১.৯ শতাংশ। ২০২৫ সালেও এই পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিপরীতে পুরুষদের বেকারত্বের হার কিছুটা স্থিতিশীল থাকায় কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের প্রকট রূপটি সামনে চলে আসছে।
উচ্চশিক্ষা কি তবে অভিশাপ
রাজ্যের কর্মসংস্থান বাজারের সবচেয়ে অদ্ভুত ও নেতিবাচক দিকটি হলো শিক্ষার হারের সঙ্গে বেকারত্বের সমানুপাতিক বৃদ্ধি। দেখা যাচ্ছে, যারা কম শিক্ষিত, তাদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলক কম। কিন্তু স্নাতকোত্তর স্তরের মহিলাদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার যেখানে ১৫.৪ শতাংশ, সেখানে সমমানের শিক্ষিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, ডিগ্রি যত বাড়ছে, মহিলাদের চাকরির সম্ভাবনা ততটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সরকারি বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প বা জব ফেয়ার চালু থাকলেও উচ্চশিক্ষিত মহিলারা কেন তার সুফল পাচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
নির্বাচনের মুখে তৃণমূল বা বিজেপি—সব পক্ষই মহিলাদের জন্য ভাতা এবং আর্থিক সহায়তার কথা বলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আর্থিক অনুদান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে শিক্ষিত নারীশক্তির এই অপচয় রাজ্যের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভোটের ময়দানে এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—আদতে ভাতার রাজনীতি না কি চাকরির নিশ্চয়তা, কোনটা বেছে নেবেন বাংলার শিক্ষিত মহিলারা।
এক ঝলকে
- ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের হার বেড়ে ১০.৬ শতাংশ হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি।
- স্নাতকোত্তর স্তরের মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৫.৪ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২.৯ শতাংশ।
- গত ৩ বছরে তরুণীদের বেকারত্বের হার ৫.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
- কর্মসংস্থানের অভাব থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলোর ইস্তেহারে ভাতার প্রতিশ্রুতির আধিক্য দেখা যাচ্ছে।