‘হাতে রয়েছে নতুন তাস’, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করে আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত আমেরিকা-ইরান বৈঠক নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রতিনিধি দল পাঠানোর ঘোষণা দিলেও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ এবং ক্রমাগত হুঁশিয়ারিতে ক্ষুব্ধ ইরান এই আলোচনায় বসতে এখনো দ্বিধাবিভক্ত। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, হুমকির ছায়ায় কোনো কূটনৈতিক আলোচনা সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক সংকট ও তেহরানের অবস্থান
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের কঠোর নীতির কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে একটি ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ রূপান্তর করতে চায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান যুদ্ধের ময়দানে তাদের কাছে থাকা ‘নতুন তুরুপের তাস’ ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে, মার্কিন পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোই এই মুহূর্তে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবরোধ বনাম সমঝোতার লড়াই
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। যদিও ট্রাম্প সাত এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যার সময়সীমা আগামী বুধবার শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বৈঠকের নিরাপত্তার জন্য ২০ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এখনো পাকিস্তানে না পৌঁছানোয় আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
বৈশ্বিক তেলের বাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইরানের দাবি—এমন কোনো চুক্তি হতে হবে যা পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়া রোধ করবে এবং তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। বর্তমানে ওয়াশিংটনের চাপ এবং তেহরানের অনমনীয় মনোভাবের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন সংঘাতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।
এক ঝলকে
- ট্রাম্পের অবরোধ নীতির প্রতিবাদে ইসলামাবাদে হতে যাওয়া শান্তি বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে ইরানের অনীহা।
- মার্কিন চাপ অব্যাহত থাকলে যুদ্ধের ময়দানে ‘নতুন অস্ত্র’ বা কৌশল ব্যবহারের হুমকি দিল তেহরান।
- হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে ট্রাম্পের শর্ত এবং বুধবার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা।
- বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য পাকিস্তানে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও মার্কিন প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে বাড়ছে সংশয়।