আগে ধারালো অস্ত্রের কোপ, পরে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন; মালদায় গৃহবধূ খুনে চাঞ্চল্য
মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বেজপুরায় এক তরুণী গৃহবধূকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম মাজিমা খাতুন (২৫)। অভিযোগের তির তাঁর স্বামী শেখ ইস্তামুলের দিকে। সোমবার ভোররাতে বাপের বাড়িতে থাকাকালীন ওই গৃহবধূর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক।
পারিবারিক বিবাদ ও নৃশংস হামলা
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে খবর, তিন বছর আগে ইস্তামুলের সঙ্গে মাজিমার বিয়ে হলেও তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। মাঝেমধ্যেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি হতো, যা এক সময় থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সম্প্রতি বিবাদ চরমে পৌঁছালে মাজিমা তাঁর বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। রবিবার মাঝরাতে ইস্তামুল সেখানে চড়াও হয়ে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাজিমাঁকে কোপায় এবং পরে ভারী পাথর দিয়ে তাঁর মুখ থেঁতলে দেয়। এমনকি বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মাজিমার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।
তদন্তে পুলিশ
গুরুতর আহত অবস্থায় মাজিমার প্রথমে চাঁচল ও পরে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা চলে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মৃতার বাবা শেখ মাজিরুদ্দিন জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত ইস্তামুলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। দাম্পত্য কলহ ও দীর্ঘদিনের বনিবনার অভাবই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে স্বামী শেখ ইস্তামুলের হাতে স্ত্রী মাজিমা খাতুন খুনের অভিযোগ।
- ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর পাথর দিয়ে মুখ থেঁতলে ও হাত-পা ভেঙে নৃশংসভাবে হত্যা।
- দীর্ঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল এবং বিষয়টি আইনি পর্যায়েও পৌঁছেছিল।
- অভিযুক্ত ইস্তামুল বর্তমানে পলাতক এবং পুলিশ তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।