ট্রাম্পের হুঙ্কারে কি বিপাকে ভারত?

বর্তমান ডেস্কঃ

রাশিয়া ও ইরানের তেল আমদানিতে আর ছাড় নয়, ভারতের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

রাশিয়া ও ইরানের ওপর থেকে তেল আমদানির বিষয়ে দেওয়া সাময়িক ছাড়পত্র আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট এক সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গত মার্চ মাসে ভারতসহ তেল আমদানিকারী দেশগুলোকে যে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না। ফলে রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে অশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হচ্ছে।

জ্বালানি জোগানে ধাক্কা ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে যে তেলের সংকট তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনে মার্কিন প্রশাসন এই সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংকট নিরসন না হওয়ায় এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার অভাব থাকায় নতুন করে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। এই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করবে।

এই বিধিনিষেধ ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক সপ্তাহে তেল সরবরাহের যেটুকু ভারসাম্য ফিরে এসেছিল, মার্কিন প্রশাসনের এই কড়া সিদ্ধান্তে তা ফের বিঘ্নিত হতে পারে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন শান্তি বৈঠকের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি।

এক নজরে

  • রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনার সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ বাড়াচ্ছে না মার্কিন প্রশাসন।
  • হরমুজ প্রণালী নিয়ে জট অমিমাংসিত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
  • জ্বালানি সংকটের জেরে ভারতের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *