খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদিকে আমন্ত্রণ, দিল্লির কূটনীতিতে কি তবে অস্বস্তি?
ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাঠানো এই আমন্ত্রণপত্র ঘিরে সাউথ ব্লকের কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বিবেচনায় এই মুহূর্তে মোদির ইরান সফর কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-বিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষিতে ভারত এই আমন্ত্রণে কীভাবে সাড়া দেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর নজর রয়েছে।
দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছিল। নিরাপত্তার কারণে এতদিন এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, তবে সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় হামলার আশঙ্কা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। রাশিয়া, চিন, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষের ঝুঁকি এড়ানোই এখন প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।