কোচিং সেন্টারের দাপট শেষ! জয়েন্ট-নিট পরীক্ষায় আসছে বড় বদল? – বর্তমান বাংলা
বর্তমান ডেস্কঃ
September 7, 202611:33 am
বিশেষ প্রতিনিধি: দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারের ওপর অন্ধ নির্ভরতা কমাতে এবং ‘ডামি স্কুল’-এর বাড়বাড়ন্ত রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা—যেমন JEE ও NEET-এর প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের যেন আর কোচিংয়ের দ্বারস্থ হতে না হয়, সে উদ্দেশ্যে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল সম্প্রতি তাদের খসড়া রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
গত বছর জুনে গঠিত সাত সদস্যের এই প্যানেলের মূল লক্ষ্য, দেশের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যাতে স্কুলের পড়াশোনাতেই সব উত্তর মেলে।
💡 প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ:
- সিলেবাস ও প্রশ্নের ফারাক মেটানো: বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পড়াশোনা ও সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নের কঠিনতার মধ্যে বিরাট ফারাক থাকে। প্যানেলের স্পষ্ট সুপারিশ—প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নের মান ও বিষয়বস্তু অবশ্যই দ্বাদশের সিলেবাসের সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। স্কুলের সিলেবাসের বাইরে গিয়ে অহেতুক ‘অ্যাডভান্সড’ প্রশ্ন করার রীতি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
- দ্বাদশের বোর্ডের নম্বরকে গুরুত্ব: উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে কেবল প্রবেশিকা পরীক্ষার র্যাঙ্ক নয়, দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকেও নির্দিষ্ট পরিমাণে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমের পড়াশোনা এবং বোর্ড পরীক্ষা এড়িয়ে কেবল কোচিংমুখো হওয়া বন্ধ করবে এবং স্কুলে উপস্থিতির হার বাড়বে।
- অষ্টম শ্রেণি থেকেই কেরিয়ার কাউন্সিলিং: শুধুমাত্র ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার অন্ধ ইঁদুর দৌড় থামাতে অষ্টম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা যাচাইয়ের অ্যাপটিটিউড টেস্ট করা দরকার। এতে শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই নিজেদের আসল দক্ষতা চিনে বিকল্প কেরিয়ার বেছে নিতে পারবে।
- স্কুলেই বাড়তি ক্লাস ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ: স্কুল ছুটির পরে স্কুলেই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক ক্লাসের আয়োজন করা যেতে পারে (তবে স্কুল যেন কোচিং সেন্টারে পরিণত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে)। এছাড়াও মুখস্থ বিদ্যার বদলে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর ভাবনায় অভ্যস্ত করতে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ? সাম্প্রতিক সময়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রে একাধিক কোচিং সেন্টারের নাম জড়ানো এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর লাখ লাখ টাকা নষ্ট হওয়ার প্রেক্ষিতে এই প্রস্তাবগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রক এই সুপারিশগুলি বাস্তবায়ন করলে একদিকে যেমন কোচিং বাণিজ্যে রাশ টানা যাবে, তেমনই ভারতের নিজস্ব স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার মান ও গুরুত্ব পুনরুত্থিত হবে।