‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!’ ইস্তফার সম্ভাবনা উড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকেই ‘ভিলেন’ দাগলেন মমতা

কলকাতা: ৫ মে, ২০২৬। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ভরাডুবির পর মঙ্গলবার বিকেলে প্রথমবার জনসমক্ষে এলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করার পরও পদত্যাগের প্রশ্ন সপাটে উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। কালীঘাটের বাড়ি থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”

ইস্তফা দেবেন না লোক ভবনে

সাধারণত পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি লোক ভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না। তাঁর যুক্তি, এই ফলাফল জনমতের সঠিক প্রতিফলন নয়। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি পাল্ট প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে? ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। ভোটে হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা তো হয়নি। ওরা ভোট লুট করেছে।”

নির্বাচন কমিশনই ‘ভিলেন’

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিল মূলত নির্বাচন কমিশন। কমিশনকে ‘ভিলেন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে তৃণমূলের ১০০-র বেশি আসন ‘চুরি’ করা হয়েছে। নেত্রীর অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। তারা মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করা হয়েছে, সব অফিসারকে বদলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।”

রাস্তায় ছিলাম, রাস্তাতেই থাকব

ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই পরাজয় তাঁকে দমাতে পারবে না। তিনি ফের রাস্তায় নামবেন এবং মানুষের কাছে যাবেন। তাঁর কথায়, “আমি রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব এবং আবারও ঘুরে দাঁড়াব।” জোট শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

এক নজরে ফলাফল (২০২৬):

  • মোট আসন: ২৯৩
  • বিজেপি: ২০৭
  • তৃণমূল কংগ্রেস: ৮০

নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল। এখন দেখার, সরকার গঠন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে রাজভবন বা বিজয়ী শিবির কী ভূমিকা নেয়।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *