করিমপুরে সোহম-ম্যাজিক ব্যর্থ! অভিনেতা থেকে নেতা হতে গিয়ে কোথায় ধাক্কা খেলেন? হারের পর দিলেন বড় বার্তা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র করিমপুরে নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। বিগত নির্বাচনে এই আসনটি তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবারের ফল বলছে করিমপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে গেছে।
পরাজয় স্বীকার ও সোহমের প্রতিক্রিয়া
ফলাফল ঘোষণার পর পরাজয় মেনে নিয়ে অত্যন্ত সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। তিনি জানান, গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই শেষ কথা এবং সেই রায়কে তিনি মাথা পেতে নিচ্ছেন। নিজের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মানুষ যা ভালো বুঝেছেন, সেই মতোই রায় দিয়েছেন। কোথাও যদি আমাদের ভুল হয়ে থাকে, তবে হয়তো তারই শাস্তি আমরা পেয়েছি।” তবে রাজনৈতিক ময়দান ছেড়ে না গিয়ে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন এই তারকা প্রার্থী।
ভোটের পাটিগণিত ও হারের নেপথ্যে
২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের বিমলেন্দু সিংহ রায় প্রায় ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সেই সময়েও বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে গ্রামীণ ও শহর এলাকার ভোটারদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি তৈরি হওয়া ক্ষোভ এবং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিই সমরেন্দ্রনাথের এই জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। মূলত নারী ও পুরুষ ভোটারদের মেরুকরণ এবং স্থানীয় ইস্যুগুলিই এই হাই-প্রোফাইল আসনের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
করিমপুরের এই পরাজয় তৃণমূলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এক সময়ের শক্ত ঘাঁটিতে ঘাসফুল শিবিরের এই পিছু হটা জেলার অন্যান্য প্রান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, সমরেন্দ্রনাথ ঘোষের এই জয় বিজেপির জন্য নদিয়া জেলায় নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে। এই ফলাফল আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।