কালীঘাটের বৈঠকে গরহাজির ১১ বিধায়ক! কারচুপি ও দলবদলের জল্পনার মধ্যেই কড়া বার্তা মমতার

কলকাতা ৭ মে, ২০২৬। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বুধবার কালীঘাটে তৃণমূলের নবনির্বাচিত পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকটিই হয়ে রইল চরম নাটকীয়। একদিকে যখন দলের ভরাডুবি নিয়ে অন্তর্কন্দল শুরু হয়েছে, তখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সভাতেই গরহাজির রইলেন অন্তত ১১ জন জয়ী প্রার্থী। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ‘দলবদলের’ জল্পনা নতুন করে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।

অনুপস্থিতির তালিকায় হেভিওয়েটরা ও দলীয় ব্যাখ্যা

তৃণমূল সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে বীরভূমের কাজল শেখ, মুর্শিদাবাদের বায়রণ বিশ্বাস, আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকি এবং ভরতপুরের মুস্তাফিজুর রহমানের মতো জয়ী প্রার্থীদের দেখা যায়নি। দলের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, নিজ নিজ এলাকায় ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে থাকতেই দলনেত্রী তাঁদের এলাকায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ। বিশেষ করে কাজল শেখের মতো নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে। যদিও নেতৃত্বের দাবি, নানুরে অশান্তির কারণে তিনি আসতে পারেননি।

ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিনের বৈঠকেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। গণনায় ‘লুট’ এবং ‘কারচুপি’ হয়েছে— এই দাবিতে তিনি অনড়। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বিজেপি সরকারের শপথের দিন অর্থাৎ আগামী ২৫ বৈশাখকে কেন্দ্র করে পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে জোড়াফুলের বিধায়কদের প্রথম দিন বিধানসভায় ‘কালো পোশাক’ পরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেকই শেষ কথা, কড়া বার্তা বেসুরোদের

বৈঠকের শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে বলেন মমতা। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, দলেও তাঁর পরেই অভিষেকের স্থান এবং তাঁর নির্দেশ মেনেই সবাইকে কাজ করতে হবে। যারা অভিষেককে মানবেন না, তাঁদের দল ছেড়ে দেওয়ারও পরামর্শ দেন নেত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতা ও কাউন্সিলরের ‘বেসুরো’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও ফিরহাদ হাকিমদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দলের স্পষ্ট বার্তা— নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বললে বহিষ্কারের পথই বেছে নেওয়া হবে।

বিশ্লেষণ: সংকটে তৃণমূলের ঐক্য

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে যে চিলতে ফাটল দেখা গিয়েছিল, ১১ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি তাকে আরও চওড়া করল বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের দাপট এবং দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া সুপ্ত বিরোধ সামলানোই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তিল তিল করে গড়ে তোলা সংগঠনে এই ভাঙন তিনি কীভাবে রোধ করেন, এখন সেটাই দেখার।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *