নবান্ন নয় লক্ষ্য এবার ঐতিহাসিক মহাকরণ, বাংলায় পালাবদলের সঙ্গেই প্রশাসনিক সংস্কারের পথে বিজেপি
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিতেই বিজেপি এক বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে বাংলার সরকার নবান্ন থেকে নয়, বরং পরিচালিত হবে ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকে। নবান্নের ১৪ তলা নয়, বরং মহাকরণের দোতলায় বসেই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী জনসেবার কাজ করবেন—এমনটাই এখন গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য।
পরিবর্তনের নেপথ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় ধস নামার পেছনে একাধিক কারণ সক্রিয় ছিল। আরজি করের ‘অভয়া’ কাণ্ড এবং দোষীদের আড়াল করার অভিযোগ রাজ্যের নারীশক্তির মধ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা তৈরি করেছে। এছাড়া ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল, নিয়োগ দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূল নেতাদের তোলাবাজির অভিযোগে বীতশ্রদ্ধ ছিল সাধারণ মানুষ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পও শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ভোটব্যাংক রক্ষা করতে পারেনি। বেকারত্ব এবং নতুন শিল্পের অভাব নতুন প্রজন্মের ভোটারদের শাসকদলের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও নতুন প্রত্যাশা
বর্তমানে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ চলায় প্রশাসনিক কার্যালয় দ্রুত সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে বিজেপি একে আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার হিসেবেই দেখছে। অন্যদিকে, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির সামনে এখন একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের ৩০০০ টাকা প্রদান এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প দ্রুত চালু করার মতো প্রতিশ্রুতিগুলো পালন করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান পরীক্ষা। ২০১১ সালে যে আশার আলো নিয়ে বাম শাসনের অবসান হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবার বিজেপি বাংলার উন্নয়নে কতটা সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।