কয়লা পাচারের কালো টাকা সাদা করার পর্দাফাঁস, নাম জড়াল বড় সংস্থার!
বর্তমান ডেস্কঃ
কয়লা পাচারকাণ্ডের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আসানসোল-রানিগঞ্জ খনি অঞ্চল থেকে পাচার হওয়া কয়লার লভ্যাংশ প্রভাবশালী এবং ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি সুসংগঠিত হাওয়ালা নেটওয়ার্ক। এই কারবারের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ কালো টাকাকে বৈধ বিনিয়োগ হিসেবে দেখানোর প্রক্রিয়াও এখন গোয়েন্দাদের নজরে।
প্রভাবশালী যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্থানীয় এক শ্রেণির অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই পাচারচক্র দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিল। আসানসোল ও রানিগঞ্জ বেল্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত কয়লা ভিনরাজ্যে পাঠানোর নেপথ্যে একটি পেশাদার সিন্ডিকেট কাজ করত। এই কারবার থেকে আসা মুনাফার একটি বড় অংশ পর্দার আড়ালে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’দের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
ব্যবসায়িক সংস্থাকে ব্যবহার করে টাকা পাচার
কয়লা পাচারের অবৈধ অর্থকে অর্থনীতির মূল স্রোতে মেশাতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থাকে ‘শেল কো ম্পা নি’ বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইডির দাবি, ‘শ্যাম গ্রুপ’-এর মতো সংস্থাগুলোর নাম এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পাচারের মুনাফাকে বৈধ ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে দেখিয়ে কালো টাকাকে সাদা করার চেষ্টা করেছে এই সংস্থাগুলো। সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বদলে হাওয়ালা চ্যানেল ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা সরানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের বর্তমান গতিপ্রকৃতি
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই পাচারচক্রের মূল সুবিধাভোগীদের (Beneficiaries) চিহ্নিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। গোয়েন্দাদের মতে, এই কারবারের শিকড় অনেক গভীরে এবং এর পেছনে এক বিশাল সিন্ডিকেট কাজ করছে। হাওয়ালা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটরদের জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকার গন্তব্য খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। অদূর ভবিষ্যতে এই মামলায় আরও বড় ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক নজরে
- আসানসোল ও রানিগঞ্জ থেকে কয়লা পাচারের মুনাফা সরাতে হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে।
- কালো টাকাকে সাদা করতে শ্যাম গ্রুপ-এর মতো সংস্থার মাধ্যমে বৈধ বিনিয়োগ দেখানোর অভিযোগ।
- অসাধু স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদতেই এই বিশাল কারবার চলত।
- পাচার করা কয়লা ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।
- ইডি বর্তমানে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা তৈরিতে ব্যস্ত।