সিনেমার কায়দায় প্রেমিকার বিয়ে রুখতে গিয়ে রক্তাক্ত প্রেমিক! পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষমেশ সম্পন্ন হলো বিয়ে
বিয়ের পিঁড়িতে বসা প্রেমিকার সিঁথিতে জোরপূর্বক সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে। খোরাবার এলাকার কুসমহি বাজারে বুধবার রাতে যখন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল, ঠিক তখনই কুঠার হাতে বিয়ের আসরে উদয় হন প্রেমিকা। সিনেমার কায়দায় সবার সামনে কনের সিঁথিতে সিঁদুর মেখে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এখন থেকে ওই তরুণী তাঁর স্ত্রী।
গণপিটুনিতে রক্তাক্ত প্রেমিক
হঠাৎ এই অনভিপ্রেত ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হাতের কুঠার দেখে প্রথমে অতিথিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই যুবককে ধরে ফেলেন। ক্ষুব্ধ জনতা ও কনেপক্ষের লোকজন তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারধরের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভেঙে যাওয়া বিয়ে জোড়া লাগল সমঝোতায়
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বর ও বরের পরিবার চরম অপমানিত বোধ করেন এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা কোনোভাবেই ওই তরুণীকে ঘরে তুলতে রাজি ছিলেন না। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুই পক্ষের মুরব্বিরা আলোচনায় বসেন। রাতভর দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠকের পর অবশেষে বরপক্ষ শান্ত হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের বাকি কাজ সম্পন্ন হয় এবং কনে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এক ঝলকে
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার খোরাবার এলাকায়।
বিয়ের মঞ্চে কুঠার হাতে প্রেমিকের প্রবেশ এবং জোর করে কনের সিঁথিতে সিঁদুর দান।
ক্ষুব্ধ জনতা ও কনেপক্ষের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেমিক।
শুরুতে বিয়েতে অসম্মতি জানালেও দীর্ঘ আলোচনার পর কনেকে গ্রহণ করল বরপক্ষ।