অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আইনি লড়াই এবার উচ্চতর আদালতের দোরগোড়ায়। কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোমবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

একক বেঞ্চের নির্দেশ ও কমিশনের পাল্টা পদক্ষেপ

এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছিলেন যে, কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। ওই রায়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর হলে নির্বাচনী ডিউটি বণ্টনে বড় ধরনের রদবদল আনতে হতো কমিশনকে। তবে একক বেঞ্চের এই পর্যবেক্ষণে সন্তুষ্ট না হয়ে কমিশন দ্রুত ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানায়।

আইনি লড়াইয়ের মূল প্রেক্ষাপট

নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাধারণত সরকারি ও সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তবে অধ্যাপকদের এই পদে নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। একক বেঞ্চের যুক্তি ছিল যে, অধ্যাপকদের এই ধরনের কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু আইনি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, কমিশন চায় তাদের দক্ষ জনবল হিসেবে ব্যবহার করতে। এই দুই পক্ষের টানাপোড়েন এখন বিচার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও শুনানি

মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে। যদি ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের রায় বহাল রাখে, তবে বিপুল সংখ্যক অধ্যাপককে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। আর যদি রায় কমিশনের পক্ষে যায়, তবে আগের সিদ্ধান্তই বজায় থাকবে।

একঝলকে

  • বিষয়: অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা।
  • বর্তমান অবস্থা: নির্বাচন কমিশন ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছে।
  • আদালত: বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চ।
  • পূর্ববর্তী রায়: বিচারপতি কৃষ্ণ রাও অধ্যাপকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করেছিলেন।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *