মানচিত্রে ভুল বরদাস্ত নয়, রাষ্ট্রসংঘকে কড়া বার্তা ভারতের! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘ইকুয়াল এরিয়া’ বা সমান ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট নতুন বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেও ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে কড়া বার্তা দিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুসারেই জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখসহ সমগ্র সার্বভৌম ভূখণ্ডকে চিত্রিত করতে হবে— রাষ্ট্রসংঘকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল নয়াদিল্লি।
‘সীমানা অপরিবর্তনীয়, আপস নয়’ — স্পষ্ট বার্তা দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, “আমরা ভারতের ভূখণ্ডের কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর চিত্রায়ণ মেনে নেব না। ভারতের সীমানা অপরিবর্তনীয় এবং এ বিষয়ে কোনো আপসের প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমান ক্ষেত্রফলের মানচিত্র পদ্ধতিকে ভারত নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে ঠিকই, তবে এর অর্থ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সীমানা বা বিতর্কিত মানচিত্রকে ভারতের অনুমোদন দেওয়া নয়।
রাষ্ট্রসংঘে বিপুল ভোটে পাস টোগোর প্রস্তাব বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশের আয়তনের বৈষম্য দূর করতে আফ্রিকার দেশ ‘টোগো’ রাষ্ট্রসংঘে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ভারতসহ ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়। একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয় এবং এস্তোনিয়া, ইউক্রেনসহ ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
কেন এই নতুন মানচিত্রের প্রয়োজন? বর্তমানে সারা বিশ্বে ব্যবহৃত মানচিত্রটি ১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় নাবিকদের সুবিধার জন্য তৈরি ‘মারকেটর মানচিত্র’ (Mercator Projection)। এই মানচিত্রে বিষুবরেখার কাছের দেশগুলোকে ছোট এবং মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রকৃত আকারের চেয়ে অনেক বড় দেখানো হয়। যেমন— এতে আফ্রিকা মহাদেশকে গ্রিনল্যান্ডের সমান দেখানো হয়, অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়!
এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করতে ২০১৮ সালে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র তৈরি করা হয়, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের ৫৪টি দেশ গ্রহণ করে। বিশ্বমঞ্চে মহাদেশগুলোর সঠিক অনুপাত তুলে ধরতেই টোগোর হাত ধরে প্রস্তাবটি রাষ্ট্রসংঘে আসে, যা ভারত সমর্থন করলেও নিজেদের ভূখণ্ডের সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতিতেই অটল রয়েছে।