বর্ষায় খরা! বৃষ্টির ঘাটতিতে মাথায় হাত চাষি ও প্রশাসনের
জুনের শেষ সপ্তাহ হয়ে গেলেও দেশে বর্ষার স্বাভাবিক আমেজ অনুপস্থিত। ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করলেও আকাশ প্রায় মেঘমুক্ত থাকায় বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে গুজরাটে ঘাটতির পরিমাণ ৮৪ শতাংশ; এছাড়া মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা ও দক্ষিণের বিভিন্ন রাজ্যেও বৃষ্টির অভাব চরম আকার ধারণ করেছে। অপর্যাপ্ত বৃষ্টির সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে, ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বীজতলা তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে শক্তিশালী নিম্নচাপ বা আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি না হওয়ায় সমুদ্র থেকে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প স্থলভাগে পৌঁছাতে পারছে না, যার ফলে বর্ষার গতি থমকে গেছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতির পূর্বাভাস দিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরের নিরক্ষরেখার উত্তরে তৈরি হওয়া একটি বড় আবহাওয়া ব্যবস্থা আগামী ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুনরায় মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম ভারতের ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।