ইউক্রেনের ডাইনি বাহিনীর প্রেমের ফাঁদে রুশ জওয়ানরা!
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধারায় বড় পরিবর্তন এসেছে। সম্মুখ সমরের পরিবর্তে ইউক্রেন এখন প্রযুক্তি ও গুপ্তচরবৃত্তির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই কৌশলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের বিশেষ নারী গুপ্তচর দল, যাদের স্থানীয়ভাবে ‘ভিডমা’ বা ‘ডাইনি বাহিনী’ বলা হচ্ছে। লোকগাঁথার এই ডাইনিদের মতোই বিশেষ বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার প্রয়োগ ঘটিয়ে তারা রণাঙ্গনে রুশ বাহিনীকে নাজেহাল করে তুলছে।
এই বাহিনী অত্যন্ত সুকৌশলে রাশিয়ার গোপন তথ্য সংগ্রহ করছে। রুশ সেনাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে বা ছদ্মবেশে রুশ অধিকৃত এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহ করছে। একবার এক রুশ সেনার পাঠানো ছবির সূত্র ধরে মানচিত্র বিশ্লেষণ করে ইউক্রেন নির্ভুল ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে হাসপাতাল বা স্কুলের মতো স্থানে কাজ করে তারা সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে নিখুঁত নকশা ও অবস্থানের তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
যেসব জায়গায় পুরুষদের উপস্থিতি সন্দেহ তৈরি করতে পারে, সেখানে এই নারীরা সহজেই প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। ২০১৪ সাল থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ আজ রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই কার্যক্রমের ফলে রুশ বাহিনীর মধ্যে গভীর ভীতি ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরোধের উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি রুশ সেনা যেন সাধারণ নাগরিকের মধ্যেও নিজের বিপদ দেখতে পায় এবং প্রতিনিয়ত চরম মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হয়।