ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত উত্তর দমদম, পুরপ্রধানের অফিসে ভাঙচুর, নেতাকে নগ্ন করে মারধর
June 6, 2026
উত্তর দমদম ও মগরাহাট—এই দুই এলাকাতেই ত্রাণসামগ্রী সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
উত্তর দমদমে পুরপ্রধানের অফিসে তাণ্ডব:
ঘটনার সূত্রপাত উত্তর দমদমের পুরপ্রধান বিধান বিশ্বাসের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে।
- অভিযোগ: স্থানীয় বিজেপির অভিযোগ, পুরপ্রধানের অফিসে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী (ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি) অবৈধভাবে মজুত ছিল। ওই সামগ্রী সরিয়ে ফেলার চেষ্টার খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ দেখান।
- তাণ্ডব: বিক্ষোভকারীদের একাংশ অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ, সেখানে ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি বিতর্কিত বিভিন্ন বস্তুও পাওয়া গেছে।
- আক্রমণ: এই ঘটনার রেশ ধরে স্থানীয় কাউন্সিলার শঙ্কর দাস এবং পুরপ্রধান ঘনিষ্ঠ বাপ্পা সাহার বাড়িতে চড়াও হয় হামলাকারীরা। বাপ্পা সাহাকে ঘর থেকে টেনে বের করে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয় এবং তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করা হয়। কাউন্সিলারকেও মারধর করা হয়।
- তৃণমূলের দাবি: তৃণমূলের দাবি, ওই ত্রাণসামগ্রী দলীয়ভাবে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল। বিজেপি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই হামলা চালিয়েছে।
মগরাহাটে ত্রাণ পাচারের অভিযোগ:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধেও ত্রাণসামগ্রী পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
- ঘটনা: বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাড়ির সামনে ত্রাণসামগ্রী বোঝাই একটি গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। অভিযোগ, গিয়াসউদ্দিনের বাড়িতে মজুত থাকা সরকারি ত্রাণ গোপনে সরানোর চেষ্টা হচ্ছিল।
- পুলিশি হস্তক্ষেপ: পুলিশ গাড়িটি আটক করেছে এবং উদ্ধার হওয়া ত্রাণসামগ্রী বিডিও অফিসে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রাক্তন বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা এই বিষয়ে তাঁর কোনো দায় নেই বলে দাবি করেছেন।