মেখলিগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বাধা ১০ বাংলাদেশিকে! কাঠগড়ায় বিজিবি
June 6, 2026
কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে ১০ জন বাংলাদেশিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং বিজিবি-বিএসএফের পালটাপালটি অভিযোগ ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা: কী ঘটছে পানিশালায়?
- ঘটনার সূত্রপাত: শুক্রবার সকাল থেকেই মেখলিগঞ্জের পানিশালা সীমান্তে ১৩৪ নম্বর পিলারের কাছে জ়িরো পয়েন্টে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেখা যায়। বিএসএফের অভিযোগ, বাংলাদেশের ঝালাঙ্গী এলাকা থেকে গাড়ি করে তাঁদের সেখানে আনা হয় এবং বিজিবির ৬১ নম্বর ব্যাটালিয়ন তাঁদের ভারতে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
- বিএসএফের ভূমিকা: বিএসএফের ৯৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা অনুপ্রবেশের এই প্রচেষ্টায় বাধা দেন এবং ওই ১০ জনের কাছে বৈধ নথিপত্র দাবি করেন। কোনো বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের ফিরে যেতে বলা হয়। জওয়ানরা বর্তমানে ওই এলাকাটিতে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছেন।
- পালটাপালটি অভিযোগ: বিএসএফের অভিযোগের বিপরীতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বিজিবি দাবি করেছে, ওই ১০ জনকে উলটে বিএসএফই বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। দুই বাহিনীর এই বিপরীতমুখী দাবির ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
- ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে অচলাবস্থা: পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হওয়ার কথা থাকলেও, বিজিবির আপত্তিতে সেটি শুক্রবার সম্পন্ন হয়নি।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব:
- আতঙ্ক: জ়িরো পয়েন্টে ওই ১০ জন (নারী ও শিশুসহ) রাত পর্যন্ত অবস্থান করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
- চাষাবাদ ব্যাহত: কাঁটাতারের ওপারে অনেকের চাষের জমি রয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে শুক্রবার অনেকেই তাঁদের জমিতে গিয়ে চাষের কাজ করতে পারেননি। যদিও বিএসএফ স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেছে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট:
আগামী ৮ জুন থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই হবে দুই দেশের বিএসএফ এবং বিজিবি-র প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈঠকের ঠিক আগে এই ধরনের ঘটনা সীমান্তবর্তী কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।