বাংলাদেশে ড্রোনের কারখানা গড়তে আগ্রহী তুরস্ক, ঢাকায় এল বড় প্রস্তাব
June 6, 2026
তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশে অ্যাটাক ড্রোনের কারখানা তৈরির প্রস্তাবটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফর ও প্রস্তাবের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
তুরস্কের প্রস্তাব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
- অ্যাটাক ড্রোনের কারখানা: তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশে অ্যাটাক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তুরস্কের তৈরি আধুনিক অ্যাটাক ড্রোন বর্তমানে বিশ্ববাজারে অত্যন্ত সমাদৃত, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- প্রতিরক্ষা ও স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতিমধ্যে তুরস্কের ড্রোন সংগ্রহের বিষয়ে সরকারের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, অ্যাভিয়েশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত হয়েছে।
- সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি: সফরকালে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া, আঙ্কারার সঙ্গে ঢাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) স্বাক্ষরের ব্যাপারেও প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে।
- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সফরকালে তুর্কি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
কৌশলগত গুরুত্ব:
এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ একটি বড় সংযোজন হতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।