নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই দুর্নীতির মূলে কুঠারাঘাত শুভেন্দু সরকারের, পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ!
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমনে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের আগেই রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপারদের (SP) কাছে নবান্ন থেকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে কোনওভাবেই সিন্ডিকেটরাজ এবং গরু পাচার চক্র চলতে দেওয়া হবে না। বিগত সরকারের আমলে এই দুই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে যে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, তার স্থায়ী অবসান ঘটাতেই শুভেন্দু সরকারের এই প্রারম্ভিক তৎপরতা।
পাচার রুখতে সীমান্তে কড়াকড়ি ও বিএসএফ-কে জমি
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিএসএফ-এর (BSF) হাতে সীমান্ত অঞ্চলের জমি তুলে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে তিনি জানান, রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ভূমি-রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনি গবাদি পশুর হাট বন্ধ করতে জেলায় জেলায় কড়া নজরদারি চালানোর জন্য পুলিশকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও কেন্দ্রীয় আইনের প্রয়োগ
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর হবে। এতদিন রাজ্য সিআরপিসি-র আওতায় থাকলেও এখন থেকে কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামো মেনেই বিচার প্রক্রিয়া চলবে। আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে তাঁদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের জন্য অন্যান্য রাজ্যের আদলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দিয়ে কর্মপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টাও করেছে নতুন সরকার।
সামাজিক প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মেলবন্ধন
রাজ্যবাসীকে স্বস্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, বর্তমানের কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। তবে উপভোক্তাদের তালিকায় স্বচ্ছতা ফেরাতে কোনও অভারতীয় নাগরিককে এই সুবিধা দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০’ এবং ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালুর সবুজ সংকেত দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে প্রথম দিনের সিদ্ধান্তে প্রশাসনকে জঞ্জালমুক্ত ও কেন্দ্রীয় অনুগামী করার বার্তাই দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।