ক্রমাগত ট্রোল আর কটাক্ষের পাহাড় সরিয়ে শুভশ্রীকে নিয়ে দেশ ছাড়লেন রাজ!
রাজনীতির ময়দান থেকে সিনেমার চেনা আলোয় ফেরার পথে টলিউড পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং ভোট গণনার দিন অনভিপ্রেত ঘটনার শিকার হওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রাজ আপাতত জনসমক্ষ থেকে দূরে। শুধু রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাই নয়, নেটদুনিয়ার লাগাতার ট্রোলিং এড়াতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিও মুছে ফেলেছেন তিনি। এই কঠিন সময়ে স্বামীর হাত শক্ত করে ধরে ছায়ার মতো পাশে রয়েছেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। এবার সব বিতর্ক আর কটাক্ষকে পিছনে ফেলে বিবাহবার্ষিকী উদযাপনে থাইল্যান্ডের নীল জলরাশিতে পাড়ি জমালেন এই তারকা দম্পতি।
কটাক্ষ সরিয়ে অষ্টম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন
১১ মে ছিল রাজ-শুভশ্রীর অষ্টম বিবাহবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনটি কাটাতে তাঁরা বেছে নিয়েছেন থাইল্যান্ডের ক্রাবি দ্বীপকে। সমুদ্রের ধারে ক্যান্ডেললাইট ডিনার থেকে শুরু করে নিভৃত মুহূর্তের একগুচ্ছ ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন শুভশ্রী। ছবির ক্যাপশনে রাজকে নিজের ‘সুপারহিরো’ ও ‘গর্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে ভালোবাসা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে সেখানেও পিছু ছাড়েনি ট্রোলাররা। কটাক্ষের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, শুভশ্রী তাঁর পোস্টের কমেন্ট সেকশন সীমাবদ্ধ করে দিতে বাধ্য হন। এই সফরে দম্পতির সঙ্গে তাঁদের দুই সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনিকে দেখা না গেলেও, নিজেদের একান্ত সময়টুকু তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন তাঁরা।
রাজনীতি বিয়োগ ও সিনেমার আঙিনায় প্রত্যাবর্তন
বিগত সরকারের আমলে রাজনীতির আঙিনায় রাজের সক্রিয়তা থাকলেও, এবারের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গণনাকেন্দ্রের বাইরে শারীরিক হেনস্থা ও কাদা ছোঁড়ার মতো ঘটনার পর রাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজনীতি তাঁর জন্য নয়। নিজের পুরনো ক্ষেত্র অর্থাৎ চলচ্চিত্র পরিচালনাতেই এখন থেকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তিনি। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন যে, সিনেমা দিয়েই তিনি মানুষকে আনন্দ দিতে চান। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েন আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজ-শুভশ্রীর এই বিদেশ সফর আদতে তাঁদের মানসিক প্রশান্তি খোঁজার এক নতুন প্রয়াস বলে মনে করছে বিনোদন জগত।