বিজেপি সরকারের প্রথম দিনেই একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, চালু হলো নতুন আইন ও জনগণনা

নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রশাসনিক খোল নলচে বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনি পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। এক নজরে দেখে নিন মুখ্যমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ঘোষণাগুলি:

রাজ্যে কার্যকর হলো ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা BNS কার্যকর করা হলো। তিনি বলেন, “আগের সরকার এতদিন পুরোনো সিআরপিসি (CrPC) মেনে চলছিল, কিন্তু এখন থেকে বাংলায় সংবিধান মেনে নতুন কেন্দ্রীয় আইন বলবৎ হবে।” এর ফলে বিচারব্যবস্থা ও পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে।

শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ

বিগত সরকারের আমলে বাংলায় জনগণনা বা সেন্সাস নিয়ে যে টালবাহানা চলছিল, তার অবসান ঘটালেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানান, আজ সোমবার থেকেই রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের জনসংখ্যা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া সহজ হবে।

শহিদ পরিবারগুলোর দায়িত্ব নিল সরকার

আবেগঘন কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বিজেপির ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের সম্পূর্ণ দায়ভার এবং দায়িত্ব আজ থেকে রাজ্য সরকার গ্রহণ করল। তিনি বলেন, “এই শহিদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। তাঁদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা হবে।”

প্রশাসনিক সংস্কার ও আইএএস-আইপিএসদের প্রশিক্ষণ

কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত মিটিয়ে প্রশাসনের মানোন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন শুভেন্দু। এখন থেকে রাজ্যের আইপিএস (IPS) এবং আইএএস (IAS) অফিসাররা নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন। এতদিন এই প্রক্রিয়াটি রাজ্যে কার্যত থমকে ছিল। এর ফলে আমলাতন্ত্রে পেশাদারিত্ব বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

অবাধ নির্বাচনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

এবারের নির্বাচনকে ‘ভয়মুক্ত ও অবাধ’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশন, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, ভোটকর্মী, গণনাকর্মী এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন, যার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে ধন্যবাদের পাত্র।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট করে দিল যে, প্রথম দিন থেকেই তিনি প্রশাসনকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে তুলে এনে এক নতুন কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে মরিয়া। নবান্নের এই ‘নতুন অধ্যায়’ নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? আমাদের জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *