ইরানের প্রস্তাব ‘অগ্রহণযোগ্য’, দুই সপ্তাহের মধ্যে হামলার চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
শান্তি প্রস্তাব ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান টানাপড়েন এবার যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। দীর্ঘ টালবাহানার পর তেহরানের পাঠানো জবাবকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই উত্তর তাঁর মোটেও পছন্দ হয়নি। একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর বড়সড় সামরিক হামলার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের কড়া প্রতিক্রিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
রবিবার সকালে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার একদমই পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য!” ট্রাম্পের দাবি, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান কেবল আমেরিকার সঙ্গে ‘খেলা’ করেছে এবং সময় নষ্ট করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারা আর হাসার সুযোগ পাবে না।” ইরান তার জবাবে পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে শর্তগুলি দিয়েছে, তা মার্কিন প্রশাসনের কাছে অবান্তর বলে মনে হয়েছে।
সামরিক পদক্ষেপ ও চরম সময়সীমা
শান্তি প্রস্তাবে জট না কাটায় ট্রাম্প এবার চরম পথ বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী দুই সপ্তাহের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে ইরান নতিস্বীকার না করলে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আমেরিকা আকাশপথে হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা ইতিমধ্যে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে, তাই সামরিক পদক্ষেপ নিতে আমেরিকা দ্বিধা করবে না।
বিশ্বজুড়ে তীব্র অস্থিরতা ও তেলের বাজার
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। কূটনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি কি কেবলই চাপের কৌশল, নাকি সত্যিই এক ভয়াবহ যুদ্ধের মহড়া? দুই সপ্তাহের এই ডেডলাইন এখন গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে।