দেশের অর্থনীতি রক্ষায় আমজনতাকে সোনা কেনা ও বিদেশযাত্রা এড়ানোর আহ্বান মোদীর
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতামূলক আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার ও জ্বালানি মজুত সুরক্ষিত রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জ্বালানি সাশ্রয় ও বিলাসিতা বর্জনের ডাক
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন যে, পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে নাগরিকদের গণপরিবহন ব্যবহারে আরও সচেতন হতে হবে। এছাড়া অপ্রয়োজনে বিদেশভ্রমণ এবং অত্যন্ত জরুরি না হলে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মূলত আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর চাপ কমিয়ে দেশের ভাঁড়ারে সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার অপচয় রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সংকটের কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের আমদানিতে। সোনা ও তেলের মতো মূল্যবান সামগ্রী আমদানিতে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা ব্যয় হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাগরিকরা বিলাসদ্রব্য কেনা কমিয়ে দিলে অভ্যন্তরীণ বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি খুচরো বাজার এবং পর্যটন শিল্পে সাময়িক মন্দা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।