রাজনীতির প্যাঁচে বেঙ্গালুরু থেকে সরল আইপিএল ফাইনাল, ক্ষুব্ধ কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা
আইপিএল ফাইনালের মহারণ আয়োজন নিয়ে বিসিসিআই ও কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সংঘাত এবার চরমে। প্রথা অনুযায়ী গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। বুধবার বোর্ডের পক্ষ থেকে প্লে-অফের যে চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে আগামী ৩১ মে মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে গুজরাটে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএসসিএ)।
টিকিট নিয়ে টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক প্রভাব
বেঙ্গালুরু থেকে ফাইনাল সরিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে উঠে আসছে নজিরবিহীন এক রাজনৈতিক জটিলতা। জানা গেছে, কর্নাটকের স্থানীয় বিধায়ক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিকিটের জন্য বিসিসিআই-এর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাভার দাবি তোলেন, প্রতিটি বিধায়ককে পাঁচটি করে ভিআইপি টিকিট দিতে হবে। এই দাবিতে সায় দিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বিধায়কদের জন্য তিনটি করে টিকিটের মৌখিক আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা বোর্ডের নিয়ম মেনে এই আবদারে আপত্তি জানানোয় পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। এমনকি বিধায়কদের পক্ষ থেকে ক্রিকেট সংস্থাকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক এই অস্থিরতা এড়াতেই বোর্ড ফাইনালের ভেন্যু পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
পরিচালনার অজুহাতে বিপাকে ক্রিকেট অনুরাগীরা
বিসিসিআই-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরিচালনা ও আয়োজনের সুবিধার্থেই ফাইনাল আহমেদাবাদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা। সংস্থার সভাপতি ও প্রাক্তন ক্রিকেটার বেঙ্কটেশ প্রসাদ জানান, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এবারের প্রতিটি ম্যাচ অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা ফাইনাল আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। বোর্ডের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট ভক্তরা। বিশ্লেষকদের মতে, খেলাধুলার সাথে রাজনীতির এই সংঘাত কেবল একটি বড় টুর্নামেন্টের সূচিই বদলে দেয়নি, বরং দেশের ক্রিকেট পরিকাঠামোয় কেন্দ্রীয় বোর্ডের সাথে রাজ্য সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ওপর বিসিসিআই-এর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।