কবিতা লিখে এবার আরাম করুন মমতা, সোনারপুরে জিতেই তীব্র কটাক্ষ রূপার
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের মাটিতে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্য গেরুয়া শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে। এই আবহে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। জয়ের শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন এই তারকা নেত্রী।
মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ‘কবিতা’ কটাক্ষ
জয়ের পর সমর্থকদের নিয়ে বিজয় উৎসবে শামিল হন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন তিনি। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সৃজনশীল সত্তাকে টেনে এনে রূপা বলেন, “উনি এখন বসে বসে কবিতা লিখতে পারেন, একটু আরামও করতে পারেন। অবশ্য ওনার কবিতার মতোই ওনার কোনও কথাই মানুষ বুঝতে পারেন না।” মুখ্যমন্ত্রীর সাহিত্যচর্চাকে এভাবে রাজনৈতিক পরাজয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া রূপার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
পরিবর্তনের ইঙ্গিত ও দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির দাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুর দক্ষিণের এই জয় কেবল একজন প্রার্থীর জয় নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির বড় প্রমাণ। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, জেলাগুলোতে শাসকদলের একচেটিয়া আধিপত্যে ফাটল ধরিয়ে বড়সড় থাবা বসিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে পরিবর্তনের পক্ষেই সওয়াল করেছেন।
বিরোধী শিবিরের এই ধারালো আক্রমণের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে নির্বাচনের পর শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ‘কবিতা’ খোঁচা সেই উত্তাপের আগুনে কার্যত ঘৃতাহুতি দিল।