মে মাসেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম, কত টাকা আসবে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় রদবদলের পর এখন সাধারণ মানুষের নজর নতুন সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর দিকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই এখন প্রশ্ন উঠছে, কবে থেকে কার্যকর হবে এই প্রকল্প এবং বর্তমানের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পেরই বা ভবিষ্যৎ কী?
প্রকল্পের রূপরেখা ও অংকের পরিবর্তন
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারের সময় ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করা হবে। এই নতুন প্রকল্পে মহিলাদের মাসিক ভাতার পরিমাণ একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিদায়ী তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১০০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১২০০ টাকা পাচ্ছিলেন, যা সম্প্রতি যথাক্রমে ১৫০০ ও ১৭০০ টাকা করার কথা ছিল। তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কার্যকর হলে রাজ্যের মহিলারা আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড়সড় লাফ দেখতে পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও বর্তমান স্থিতি
আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্পের অনুমোদন মিলতে পারে। মে মাস থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখনই বন্ধ হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান, নতুন প্রকল্প চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ভাতার টাকা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে। সরকার গঠিত হলে ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, সেই বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
বিপুল এই আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিশাল অংকের এই বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।