মালদায় বৌদির হাঁসুয়ার কোপে দেওর খুন, গণপিটুনির পর অভিযুক্তকে আটক করল পুলিশ!
মালদা: তুচ্ছ সাংসারিক বিবাদের জেরে দেওরকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ বৌদির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মোথাবাড়ি থানার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুর এলাকায়। গত রবিবার রাতের এই হামলায় গুরুতর আহত যুবক সম্রাট মন্ডল (২৫) মঙ্গলবার সকালে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মহিলাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পারিবারিক কলহ ও রক্তক্ষয়ী হামলা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্রাট পেশায় ছিলেন দিনমজুর। একই বাড়িতে থাকলেও বড় বৌদি পূজা মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে সম্রাটের পরিবারের বনিবনা ছিল না। অভিযোগ, পূজার স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। গত রবিবার রাতে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে চরম আকার ধারণ করে। সেই সময় অভিযুক্ত পূজা হাঁসুয়া নিয়ে সম্রাটের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সম্রাটকে উদ্ধার করে দ্রুত মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। টানা দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে প্রাণ হারান তিনি।
গণবিক্ষোভ ও পুলিশের তৎপরতা
সম্রাটের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত পূজা মন্ডলকে ধরে ব্যাপক মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে মোথাবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা মৃতদেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন।
মৃতের স্ত্রী জয়শ্রী মন্ডলের দাবি, সম্রাটের রোজগার ও সুখী পরিবার সহ্য করতে না পেরেই পূজা এই হামলা চালিয়েছে। এমনকি সম্রাটের মায়ের ওপরও পূজা প্রায়ই অত্যাচার করত বলে অভিযোগ স্বজনদের। বর্তমানে নিহতের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা দেবীপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।