বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ জমানা, একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কথা। এই পালাবদলের ফলে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার (কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের শাসন) প্রতিষ্ঠিত হতে চলায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কেন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে একগুচ্ছ থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখন রাজ্যে পুরোদমে চালু হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বড় পরিবর্তনের হাতছানি
রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসার সুবিধা পাবে। বিদায়ী সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে এতদিন বাংলার মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প অনুমোদিত হতে পারে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় গতি ফেরানো এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় ঘর তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করাই নতুন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হতে চলেছে।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন প্রকল্পের দিশা
কেবল স্বাস্থ্য বা আবাসন নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দুয়ার খুলতে চলেছে। ‘জল জীবন মিশন’-এর মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাম্য পরিবারে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ এবং হস্তশিল্পীদের জন্য ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতদিন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে যে টালবাহানা বা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সেই জট কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্যের এই ক্ষমতার পরিবর্তন সরাসরি কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা ও প্রকল্প রূপায়ণে গতি আনবে। ফলে প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সুফল বাংলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কত দ্রুত পৌঁছায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।