১২ থেকে লাফিয়ে ২৯! লোকসভার নিরিখে তৃণমূলকে ধুয়েমুছে সাফ করল বিজেপি, দেখুন কোন কোন কেন্দ্রে ফুটল পদ্ম
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। কেবল নবান্নের ক্ষমতা দখলই নয়, বিধানসভা ভিত্তিক ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে সিংহভাগেই এখন ভারতীয় জনতা পার্টির দাপট। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এবার পদ্ম শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি ঘটেছে অভাবনীয়ভাবে।
লোকসভার অঙ্কে তৃণমূলকে যোজন যোজন পেছনে ফেলল বিজেপি
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১২টি আসনে জয়লাভ করেছিল। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ২৯টি লোকসভা আসনে লিড নিয়েছে গেরুয়া শিবির। অর্থাৎ, গত দুই বছরে অতিরিক্ত ১৭টি লোকসভা কেন্দ্রে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে তারা। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গ ও শহরতলির দমদম, বারাসত, যাদবপুর এবং শ্রীরামপুরের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতেও এবার বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া রাঢ় বাংলা, জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে গতবারের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করেছে দলটি।
রাজ্যসভার সমীকরণে বড় রদবদল
বিধানসভায় ২০৭টি আসন পাওয়ার ফলে কেবল রাজ্য রাজনীতি নয়, দিল্লির উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভাতেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্বের ধরনে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে ২০২৯ এবং ২০৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে শূন্য হতে চলা ৮টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে অন্তত ৬টি বিজেপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বঙ্গ বিজেপির গুরুত্ব আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
পরিবর্তনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত কোন্দল এবং সাধারণ মানুষের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির সন্ধানেই এই ফল প্রতিফলিত হয়েছে। বিজেপি ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে যেখানে সরকার গঠন করছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ৪০.৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই ফলের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি আগামী লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি এক সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে লড়াই শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।