হারিনি আমরা, গণনায় জালিয়াতি হয়েছে! ভরাডুবির পর ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় পরাজয়ের পর প্রথমবার মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে দুই শতাধিক আসন নিয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও, এই ফলাফলকে মানতে নারাজ তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর দল পরাজিত হয়নি, বরং গণনার সময় ব্যাপক কারচুপি করে তাঁদের হারানো হয়েছে।

কারচুপির অভিযোগে সরব তৃণমূলনেত্রী

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তাঁর পদত্যাগের জল্পনা শুরু হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সরাসরি বিজেপির নির্দেশে কাজ করেছে। ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “গণনায় সব কারচুপি হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের জোর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ফর্ম ১৭সি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর মতে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে ফলাফলের চিত্র এমন হতো না।

রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন ইঙ্গিত

নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই—এ কথা স্বীকার করে নিয়েও তৃণমূলনেত্রীর দাবি, এই হার জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন নয়। তিনি সাফ জানান, “আমরা তো হারিনি, কেন ইস্তফা দেব? কেউ জোর করে ইস্তফা দিতে বললে আমি বলব, না এটা হবে না।” বিজেপির এই জয়কে ‘ছলনার জয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান এবং কারচুপির অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে বিজেপি যখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা আইনি জটিলতা তৈরি করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *