দিল্লির মসনদ দখলে এবার ‘ফ্রি বার্ড’ মমতা, হার মেনেও ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার ডাক
বঙ্গ নির্বাচনে জনমত বিপক্ষে গেলেও পিছু হটতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে বরং জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় আরও বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ভোটের ফলপ্রকাশের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীত্বের দায়ভার না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন বা ‘ফ্রি বার্ড’। এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনে কেন্দ্রের বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে মজবুত করতে অল-আউট ঝাঁপাবেন তিনি।
দিল্লি দখলের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ লড়াই
রাজ্যের ক্ষমতা হারালেও জাতীয় স্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি মমতার। কালীঘাটের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদবদের মতো বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছেন। পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মমতা নিজেকে জোটের একনিষ্ঠ ‘কর্মী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ইন্ডিয়া জোট অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং তিনি নিজে সামনে থেকে সেই সংহতি রক্ষার কাজ করবেন। রাহুল গান্ধীও সামাজিক মাধ্যমে বাংলা ও অসমের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরোক্ষভাবে মমতার লড়াইকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
গণতন্ত্র রক্ষা ও ভবিষ্যৎ রণকৌশল
পরাজয়ের কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকেই আঙুল তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কাউন্টিং সেন্টারগুলো দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে মমতা এখন দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী প্রচারের প্রধান মুখ হয়ে উঠতে চাইছেন। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা না থাকায় তৃণমূল নেত্রীর এই ‘ফ্রি বার্ড’ অবতার জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটের গ্রহণযোগ্যতা ও ধার বাড়াতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেস ও অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জোটকে নতুন অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।