ঘাটালে ফিকে দেবের ম্যাজিক! গেরুয়া স্রোতে কি ভেসে গেল ‘মাস্টারপ্ল্যান’?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল ঘাটাল। অভিনেতা-সাংসদ দেবের গ্ল্যামার কিংবা শাসক দলের উন্নয়নমূলক প্রচার—কোনো কিছুই এবার ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা আসনগুলোকে তৃণমূলের অনুকূলে রাখতে পারল না। কেশপুর বাদে বাকি ছয়টি বিধানসভাতেই পদ্ম শিবিরের অভাবনীয় জয় নিশ্চিত হয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে সাতটির মধ্যে ছয়টি আসনেই তৃণমূল জিতেছিল, সেখানে ২০২৬-এর এই ফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও চমকে দিয়েছে।
ভেঙে পড়ল তৃণমূলের গড়
একসময়ের নিশ্চিত আসন হিসেবে পরিচিত ডেবরা, সবং কিংবা পাঁশকুড়া পশ্চিমের মতো এলাকায় তৃণমূলের পরাজয় দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলেছে। একমাত্র কেশপুর কোনোমতে নিজেদের দখলে রাখতে পারলেও বাকি সর্বত্রই বিজেপির ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল। দাসপুর এবং পিংলার মতো এলাকায় বিজেপির এই উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ ভোটাররা এবার চিরাচরিত সমীকরণের বাইরে গিয়ে রায় দিয়েছেন।
মাস্টার প্ল্যান বনাম বঞ্চনার অভিযোগ
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘ বছরের টালবাহানাই এই ভরাডুবির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে দায়ী করে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিলেও, দশকের পর দশক বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষ আর আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারেননি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি এবং এক বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষের ‘গ্যারান্টি’ সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ফলাফলের মূলে রয়েছে বারবার বন্যার কবলে পড়া মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। তারকা ইমেজ বা আবেগের চেয়ে স্থানীয় মানুষ স্থায়ী সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর ফলে ঘাটালে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য যেমন ধূলিসাৎ হলো, তেমনি আগামী দিনে উত্তর মেদিনীপুরের রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান আরও সুসংহত হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। এখন দেখার, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের বন্যার অভিশাপ সত্যিই ঘোচে কি না।