মুর্শিদাবাদ-মালদায় ভোটের রেকর্ড গণ্ডি পার, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানে কার দিকে পাল্লা ভারি?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন চমক সৃষ্টি করেছে মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলো। সামগ্রিক ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৮৫টি আসনে ব্যাপক হারে ভোট বৃদ্ধি পাওয়ায় নবান্নের চাবিকাঠি কার হাতে যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। গত নির্বাচনে এই আসনগুলোর সিংহভাগ শাসকদলের দখলে থাকলেও, এবার ভোটের এই ‘সুনামি’ অন্য কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের কপালে ভাঁজ পড়েছে।
রেকর্ড ভোটদান ও মুর্শিদাবাদের চিত্র
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ কেন্দ্রে ২০২১ সালের তুলনায় ভোটের হার বেড়েছে রেকর্ড ২০.৫ শতাংশ। এছাড়া জঙ্গিপুর, সাগরদিঘি ও সামশেরগঞ্জের মতো কেন্দ্রগুলোতেও ১৫ থেকে ১৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পরও বুথমুখী মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক সচেতনতা— উভয় কারণেই প্রান্তিক ভোটাররা এবার অধিক সক্রিয় ছিলেন।
পরিবর্তিত সমীকরণ ও প্রভাব
মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরেও ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যেখানে গোলপোখরে ১৯.৭ শতাংশ বাড়তি ভোট পড়েছে। দীর্ঘদিন পর কংগ্রেস এবার ‘একলা চলো’ নীতি নেওয়ায় এই জেলাগুলোতে লড়াই এবার সরাসরি ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে। মূলত এই ৮৫টি আসনের ফলাফলের ওপরেই নির্ভর করছে রাজ্যের পরবর্তী সরকার গঠন। যদি এই বিপুল ভোট তৃণমূলের আধিপত্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধি বা অন্য কোনো মেরুকরণ রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। ৪ মে-র ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই ভোটের সুনামি আসলে কার পালের হাওয়া।