কালীঘাটের প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা, পুলিশি অতিসক্রিয়তায় চরম হুঁশিয়ারি
ভোট গণনার আগমুহূর্তে পুলিশি কর্মকাণ্ড এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থানার সদ্য সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাসের বিতর্কিত আচরণকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের সময় যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছেন বা নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, ফল ঘোষণার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত ও ওসির সাসপেনশন
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কালীঘাট থানার দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই গৌতম দাস নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি ছবি পোস্ট করেন। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ছবি সাধারণ ভোটারদের মনে ত্রাস সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সরাসরি কমিশনে অভিযোগ জানানোর পর রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রিপোর্ট তলব করেন। এর প্রেক্ষিতেই লালবাজারের পক্ষ থেকে গৌতম দাসকে ওসির পদ থেকে সরিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
নেত্রীর কড়া বার্তা ও প্রভাব
কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, “কালীঘাটের ওসি প্রচুর বেড়েছিল, মহিলারা তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নির্বাচন চলাকালীন যে সব আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। কালীঘাটের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। নেত্রীর এই ‘অ্যাকশন মোড’ ভোট গণনার আগে রাজ্যের পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।