মাঝরাতে মদ্যপ পুলিশের তাণ্ডব ভাঙ্গরে! পথচারীদের গালিগালাজ, গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র শোনপুকুর
ভাঙ্গর: গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গরের শোনপুকুর এলাকায় এক পুলিশ কর্মীর ‘মাতলামি’কে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় সাদা পোশাকের এক পুলিশ কর্মী রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি আটকে রাখেন এবং পথচারীদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত জনতা ওই পুলিশ কর্মীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করলে এলাকায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড় ১২টা থেকে ১টার মধ্যে শোনপুকুর এলাকায় কলকাতা পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তিকে সাদা পোশাকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ, তিনি মদ্যপ অবস্থায় রাস্তার দু’দিকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির যাত্রী এবং পথচারীদের লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তাঁর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পকেটে মদের বোতল, জনতার বিক্ষোভ
বিক্ষোভকারী যাত্রীদের দাবি, ওই পুলিশ কর্মীর পকেটে মদের বোতল ছিল এবং তিনি নিজের নাম বলতে অস্বীকার করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী থাকলেও তাঁরা কোনো অপ্রীতিকর আচরণ করেননি। বরং স্থানীয়দের দাবি, অন্য পুলিশ কর্মীরা সক্রিয় না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। মদ্যপ পুলিশ কর্মীর এই আচরণের প্রতিবাদে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা।
পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙ্গর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর ধীরে ধীরে বিক্ষোভ থিতিয়ে আসে। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
ভোটের মরশুমে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।