‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইলে তবেই ভাবব’, তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি স্বঘোষিত ‘কিংমেকার’ হুমায়ুনের
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় ‘ধামাকা’টি দিলেন হুমায়ুন কবীর। ভোট পরবর্তী সমীকরণে তাঁর দল এক নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে বলে দাবি করার পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্দেশে চরম অবমাননাকর এবং কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন এই দাপুটে নেতা।
সরকার গঠনে ‘নির্ণায়ক’ শক্তি
আগামীকাল ৪ মে ভোটগণনা। তার আগে হুমায়ুন কবীরের দাবি, এবারের নির্বাচনে কোনও দলই হয়তো এককভাবে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবে না। আর সেই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের চাবিকাঠি থাকবে তাঁর দলের হাতেই। নিজেকে ‘কিংমেকার’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে বাদ দিয়ে বাংলার মসনদ দখল করা এবার কঠিন হবে।
তৃণমূলের প্রতি শর্ত: ‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা’
যদি তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় এবং হুমায়ুনের সমর্থন চায়, তবে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। হুমায়ুন কবীর সাফ জানান:
- আহ্বানে সাড়া নয়: তৃণমূল ডাকলেই তিনি আলোচনার টেবিলে যাবেন না। বরং তৃণমূল নেতৃত্বকেই তাঁর কাছে আসতে হবে।
- ক্ষমা প্রার্থনা: হুমায়ুনের কথায়, “আমার কাছে আসবে, এসে হাঁটু গেড়ে বলবে যা করেছি ভুল করেছি ক্ষমা করো। তখন ভাবব।”
- উঠবস করার নিদান: আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষের স্বার্থে, কান ধরে যদি দু’বার ওঠবস করে বলে যা করেছি ভুল করেছি, তখন ভেবে দেখব।”
পুরনো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?
রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য নিছক কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং তৃণমূলের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের এক বহিঃপ্রকাশ। অতীতে বারবার দলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি। এখন নির্বাচনের ফল যদি সত্যিই ‘ত্রিশঙ্কু’ পরিস্থিতির দিকে যায়, তবে হুমায়ুনের এই অনড় অবস্থান শাসক শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কিংমেকারের অপেক্ষায় বাংলা
বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় পক্ষই যখন জয়ের দাবি করছে, তখন হুমায়ুন কবীরের এই হুঁশিয়ারি নতুন করে জল্পনা উসকে দিল। সত্যিই কি ৪ মে-র পর হুমায়ুনের দরজায় কড়া নাড়তে হবে কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তিকে? নাকি জনতা জনার্দন কাউকেও স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে এই সব জল্পনার অবসান ঘটাবে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।