‘একুশের থেকেও বেশি আসন পাব আমরা’, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের
সোমবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। তার কয়েক ঘণ্টা আগে বুথফেরত সমীক্ষাকে স্রেফ ‘উড়িয়ে’ দিয়ে বড়সড় দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—বিজেপি সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখলেও আদতে ২০২১-এর থেকেও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে ঘাসফুল শিবির।
বুথফেরত সমীক্ষাকে তোপ
তৃণমূল সূত্রে খবর, রবিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে বুথফেরত সমীক্ষা বা একজিট পোল দেখানো হচ্ছে, তার সাথে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তিনি দাবি করেন, বিজেপি নিজেও জানে তারা সরকার গঠন করতে পারছে না। তাঁর কথায়, “বিজেপিও সরকার গঠনের আশা করছে না, তাই ভুয়ো সমীক্ষা দেখিয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা চলছে।”
আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই অভিষেক অভিযোগ করেন যে, এই ধরণের ‘ভুয়ো’ সমীক্ষার আড়ালে এক বড়সড় আর্থিক জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। শেয়ার বাজার বা আর্থিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপি পরিকল্পনা করে এই ধরণের চিত্র তুলে ধরছে বলে তাঁর দাবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই নিয়ে সরব হয়েছেন এবং অভিষেকও সেই একই পথে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন।
২১৩-এর গণ্ডি পেরোনোর লক্ষ্য
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।
এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশ
ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি এজেন্টদের সতর্ক থাকতেও বলেছেন অভিষেক। তাঁর নির্দেশ, বিজেপি জয়ী হওয়ার মিথ্যা প্রচার করে গণনাকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তাই শেষ ভোটটি গোনা পর্যন্ত এজেন্টদের নিজের জায়গা না ছাড়ার এবং প্রতিটি বুথের হিসাব মিলিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ৪ মে-র মহাযুদ্ধের আগে অভিষেকের এই দাবি তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, ‘একুশের রেকর্ড’ সত্যি সত্যিই ভাঙতে পারে কি না মমতা-অভিষেকের দল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।