বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের! গণনার কাজে কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মী নয়, ব্রাত্য ‘অস্থায়ী’রাও

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রাক্কালে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪ মে ভোটগণনার দিন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর— এই দুই জেলায় কোনোভাবেই চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো। মূলত গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে মান্যতা দিতেই এই কড়া নির্দেশ।

কী বলা হয়েছে কমিশনের নির্দেশে?

শনিবার কমিশনের পক্ষ থেকে দুই মেদিনীপুরের জেলাশাসক তথা রিটার্নিং অফিসারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে:

  • গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ইভিএম (EVM) বক্স সিল করা বা সরাচোরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো অস্থায়ী কর্মী (Contractual Staff) থাকতে পারবেন না।
  • গণনার প্রতিটি টেবিলে কেবল স্থায়ী সরকারি কর্মীদেরই নিয়োগ করতে হবে।
  • যে সমস্ত অস্থায়ী কর্মীদের আগে এই কাজের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তাঁদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রভাব

উল্লেখ্য, গণনাকর্মী নিয়োগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কমিশনকে তার নিজস্ব সার্কুলার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। সেই সার্কুলারে স্বচ্ছতার স্বার্থে কেবল নিয়মিত ও স্থায়ী কর্মীদের ওপর ভরসা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকার রেশ ধরেই এই দুই স্পর্শকাতর জেলায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন।

স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের চাপ

বিরোধীদের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে কাজ করতে পারেন। বিশেষ করে ইভিএম সিল করার প্রক্রিয়ায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। কমিশনের এই নতুন নির্দেশের ফলে সেই আশঙ্কার মেঘ কিছুটা কাটবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে দুই মেদিনীপুরের স্ট্রং রুমগুলোতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি গণনাকর্মীদের এই নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *