কার পাল্লা ভারী? বাংলার ভোটে একদিকে ‘দাগি’দের দাপট, অন্যদিকে কোটিপতিদের মেলা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)। প্রথম দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশেরই বিরুদ্ধে রয়েছে অপরাধমূলক মামলা। এর মধ্যে নারী নির্যাতন, হত্যা ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। প্রার্থীদের এই ‘দাগি’ প্রোফাইল ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যা সরাসরি জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজেপি ও তৃণমূলে দাগি ও ধনীদের লড়াই
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ডের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। দলটির প্রায় ৭০ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৩ শতাংশ এবং বামফ্রন্টের ৪৪ শতাংশ প্রার্থীর নাম জড়িয়েছে আইনি জটিলতায়। সম্পদের নিরিখেও লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৭২ শতাংশ। এর বিপরীতে বিজেপির ৪৭ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। জঙ্গিপুরের জাকির হোসেন ১৩৩ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি নিয়ে বিত্তবানদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
লিঙ্গ বৈষম্য ও শিক্ষাগত অবস্থান
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে প্রার্থীদের একটি মিশ্র ছবি ফুটে উঠেছে। প্রায় ৪৭ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার বেশি উচ্চশিক্ষিত হলেও নারী প্রতিনিধিত্বের চিত্রটি বেশ হতাশাজনক। প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ নারী, যা রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্যের ধারাকেই বজায় রেখেছে। বয়সগত দিক থেকে মধ্যবয়সীদের আধিক্য থাকলেও ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩১ শতাংশ। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর এই প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার ২৩ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২৯৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
- বিজেপি প্রার্থীদের ৭০ শতাংশ এবং তৃণমূল প্রার্থীদের ৪৩ শতাংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বর্তমান।
- কোটিপতি প্রার্থীদের তালিকায় তৃণমূল সবার উপরে (৭২%), যেখানে প্রতি প্রার্থীর গড় সম্পদ ১.৩৪ কোটি টাকা।
- এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা নগণ্য, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ১১ শতাংশ।