মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে সাফাই খাড়গের, “আমি বলতে চেয়েছিলাম তিনি ভয় দেখান”
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খড়গে প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে অভিহিত করেন। যদিও মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং বলেন যে, তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের ‘আতঙ্কিত’ করছেন তা বোঝানো। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দপ্তরের মতো সংস্থাকে ব্যবহার করে মোদী রাজনৈতিক দলগুলোকে ভয় দেখাচ্ছেন।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
খড়গের এই মন্তব্যের পরপরই ফুঁসে উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র একে কংগ্রেসের একটি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিজেপির দাবি, এটি কেবল কথার ভুল নয়, বরং রাহুল গান্ধীর নির্দেশেই খড়গে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন। বিজেপি নেতারা আরও অভিযোগ করেন, যে দল ওসামা বিন লাদেনকে ‘জি’ বলে সম্বোধন করে কিংবা জাকির নায়েককে ‘শান্তিদূত’ বলে, তাদের মুখে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন শব্দ মানায় না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাকযুদ্ধ আসন্ন নির্বাচনগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি ইতিমধ্যেই জনগণের আদালতের ওপর আস্থা রেখে বলেছে যে, অতীতেও মোদীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার ফল কংগ্রেসের জন্য ভালো হয়নি। এই বিতর্কের ফলে একদিকে যেমন বিরোধী জোটের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিজেপি এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে জনসমর্থন আরও পোক্ত করার কৌশল নিচ্ছে। এই ঘটনা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে দুই শিবিরের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়িয়ে দিল।
এক ঝলকে
- কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে মন্তব্য করায় বিতর্ক শুরু।
- খড়গের দাবি, তিনি মোদীর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানোর বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলেন।
- বিজেপি এই মন্তব্যকে কংগ্রেসের গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা চেয়েছে।
- এই রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাবে ভারতের জাতীয় স্তরে দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।