ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমি বেঁচে ফিরেছি! নাসিকের ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় কেঁপে উঠল শহর
বর্তমান ডেস্কঃ
টিসিএস নাসিক শাখায় নারী লাঞ্ছনা ও ধর্মান্তরের অভিযোগ: এসআইটি তদন্তে গ্রেপ্তার ৭
ভারতের অন্যতম বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর নাসিক শাখায় নারী কর্মীদের ওপর ভয়াবহ মানসিক ও যৌন নিগ্রহ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মীদের ভাষ্যমতে, অফিসের নির্জন স্থানে তাঁদের আটকে রেখে মোবাইল ও ব্যক্তিগত সামগ্রী জব্দ করা হতো এবং কঠোর নজরদারিতে রাখা হতো। বিশেষ করে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের টার্গেট করে ব্রেইনওয়াশ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অসাধু চক্র তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
‘ডার্ক কালচার’ ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সাল থেকে সেখানে একটি সুপরিকল্পিত ‘ডার্ক কালচার’ গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, এইচআর ম্যানেজার নিদা খান এই চক্রের নেতৃত্ব দিতেন। বন্ধুত্ব স্থাপনের আড়ালে হিন্দু নারী কর্মীদের ধর্মান্তরিত করা, হিজাব পরতে বাধ্য করা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর কর্মকাণ্ড সেখানে নিয়মিত ছিল। এছাড়া, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রতিবাদ করলে চাকরিচ্যুতির হুমকির মতো নজিরবিহীন অমানবিকতার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও টিসিএসের পদক্ষেপ
অভূতপূর্ব এই ঘটনায় নাসিক পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে। তদন্তের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিদা খানসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিসিএস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের অবিলম্বে বরখাস্ত করেছে এবং অফিসের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার নির্দেশ দিয়েছে। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে সুষ্ঠু বিচারের কঠোর আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাটি আইটি শিল্পের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এক নজরে
- ঘটনার স্থান: টিসিএস নাসিক শাখা, মহারাষ্ট্র।
- মূল অভিযোগ: যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও পরিকল্পিত ধর্মান্তরের চেষ্টা।
- আইনি পদক্ষেপ: নাসিক পুলিশের এসআইটি দ্বারা এইচআর ম্যানেজারসহ ৭ জন গ্রেপ্তার।
- কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত: অভিযুক্তদের বরখাস্ত এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু।