মাসে একদিন ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক, ঐতিহাসিক রায়ে চমকে দিল কর্নাটক হাইকোর্ট!
বর্তমান ডেস্কঃ
কর্মক্ষেত্রে ঋতুকালীন ছুটি: ঐতিহাসিক নির্দেশ কর্নাটক হাই কোর্টের
দেশজুড়ে ঋতুকালীন ছুটির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সতর্কতামূলক অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে এসেছে কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি, বেসরকারি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে মহিলা কর্মীদের জন্য ঋতুকালীন বা ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। গত বছর কর্নাটক মন্ত্রিসভা মাসে একদিনের সবেতন ঋতুকালীন ছুটির সিদ্ধান্ত নিলেও তা এতদিন কার্যকর হয়নি, যা এবার নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
জৈবিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি
আদালতের মতে, নারী ও পুরুষের জৈবিক পার্থক্য মেনে নেওয়া কোনোভাবেই সাম্যের অমর্যাদা নয়, বরং প্রকৃত সমতা হলো এই বাস্তবতাকে সম্মান জানানো। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে হাই কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, ঋতুকালীন ছুটি কোনো বাড়তি সুবিধা বা ‘প্রিভিলেজ’ নয়, বরং এটি কর্মক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা ও শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিয়োজিত নারীদের জন্য এই ছুটি সুরক্ষার একটি অন্যতম উপায় বলে আদালত মন্তব্য করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অসংগঠিত খাতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ায় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক নজরে
- কর্নাটক হাই কোর্ট সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে।
- জৈবিক পার্থক্যকে সম্মান জানানোই প্রকৃত সাম্য—এমনটাই মত আদালতের।
- অসংগঠিত খাতের নারীদের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বিহার, কেরল ও ওড়িষ্যার পর এবার কর্নাটকেও ঋতুকালীন ছুটির আইনি বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।